Skip to content

ইয়াস ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণকার্য সংক্রান্ত রিপোর্ট – পর্ব ১

প্রকৃতির সামনে মানুষ খুবই নগণ্য। বিগত এক বছরে তা বারবার প্রমাণিত সত্য। সেই প্রকৃতির অভিশাপ হয়ে যখন এই পরিথিবীর বুকে ঝড় বা অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেমে আসে তখন প্রকৃতির হাতে আমরা হয়ে পড়ি তুচ্ছ ক্রীড়ানক। কিন্তু মানুষ কখনো হারতে শেখেনি, তাই সদ্য ঘটে যাওয়া ইয়াস ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপে যে সকল মানুষ আজ গৃহহীন, তাদের পাশে আমরা আমাদের সীমিত সামর্থ নিয়ে দাঁড়াতে চেয়েছি। সেই কারণেই আমাদের এই উদ্যোগ।

এমনিতেই সুন্দরবন ও সংলগ্ন এলাকাগুলি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রত্যেক বছর কম বেশি ক্ষয় ক্ষতির সম্মুখীন হয় কিন্তু গত বছর বিধ্বংসী আমফানের ক্ষতই যেখানে শুকায়নি, সেখানে বছর ঘুরতে না ঘুরতেই আরেকটা ধাক্কা সামলানোটা সত্যিই বড্ড কঠিন। সুন্দরবনের মানুষের অস্তিত্ব আজ সংকটে। তাদের জমি, বাড়ি, দুবেলার অন্নসংস্থান সব আজ অনিশ্চিত। কিন্তু প্রত্যেকবারের এই ঝড় ঝাপটা, সুন্দরবনের মানুষকে সংগ্রামী করে তোলে, জীবনে আরও প্রবল লড়াইয়ের শক্তি যোগায়।

এই বছরও গত ২৬শে মে ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের (ইয়াস ঘূর্ণিঝড়) কারণে প্রায় সমস্ত সুন্দরবন এলাকাই বীভৎস ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। তার ওপরে পূর্ণিমায় ভরা কোটালের ফলে একাধিক নদীবাঁধ ভেঙে গিয়ে জলমগ্ন বহু এলাকা।

এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে কথাবৃক্ষ, সুরকাহন ও শপথ-এর যৌথ প্রয়াসে আমরা পৌঁছে গিয়েছিলাম দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার, গঙ্গাসাগর ও কুমিরমারী দ্বীপে – ইয়াস ঘূর্ণিঝড় বিপর্যস্ত মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার বদ্ধ হয়ে। সেখানে নদীর বাঁধ ভেঙে নোনা জল স্থলভাগে ঢুকে আসায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে বহু কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন গ্রামের মানুষেরা যাদের মধ্যে অধিকাংশই হলেন মৎস্যজীবী, মধু সংগ্রাহক ও চাষী। বিগত কয়েক দশকে সুন্দরবন এমন ভাবেই বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আমরা ইয়াস বিপর্যস্ত অঞ্চলগুলোর জন্য যে অর্থ সাহায্য চেয়েছিলাম তার একাংশ আমরা তুলে দিয়ে এসেছি এই গ্রামের মানুষদের হাতে। আপনাদের অর্থনৈতিক অনুদানের সাহায্যে আমরা কথাবৃক্ষ, সুরকাহন ও শপথ – এর যৌথ প্রয়াসে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার, গঙ্গাসগারে একটি কমিউনিটি কিচেন এবং গোসাবার কুমিরমারী দ্বীপের বিপর্যস্ত পরিবারগুলোর জন্য শুকনো খাদ্য সামগ্রীর ব্যবস্থা করেছিলাম, যা আমরা উক্ত গ্রামবাসীদের হাতে তুলে দিয়ে এসেছি।

এই সুপার সাইক্লোনের দাপটে সুন্দরবনের বহু জায়গার পুকুর ভরে গিয়েছে নোনা জলে। বন্ধ হয়ে গিয়েছে মাছের চাষ। জীবিকা হারিয়ে কাজের আশায় হাহুতাশ করছেন এলাকার মানুষ। সেই জমা জলে মাছ পচে গিয়ে বিভিন্ন জলবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ছে সংলগ্ন এলাকাগুলিতে। রোগের কারণে মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। তার উপরে এই অঞ্চলগুলোতে উপযুক্ত কোনো স্বাস্থ্য পরিকাঠামোও নেই। তার উপর এই করোনা কালের আতঙ্ক, গরিবের পেটে টান। তাই কয়েকজন সহৃদয় ডাক্তারদের সহায়তায় আমরা আগামী ১৯ ও ২০ জুন, দুদিনের জন্য মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করা হয়েছে। আপনাদের পাঠানো অনুদানের বাকি অর্ধেক অংশের সাহায্যে এই ক্যাম্পের আয়োজন করা হচ্ছে যা দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে জলবাহিত রোগ সংক্রমণের হাত থেকে কিছুটা হলেও এই অসহায় মানুষদের রক্ষা করতে পারবে।

কথাবৃক্ষ, সুরোকাহন, শপথ, সুন্দরবন, সুন্দরমন এবং সেভিং টাইগার সোসাইটি – আমরা সকলে মিলে একটি এক ও অভিন্ন লক্ষ্যে একে অপরের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে এই দর্যোগ বিপর্যস্ত মানুষদের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছি। আমাদের ডাকে সাড়া দিয়েছেন অনেকেই। তাদের সাহায্য ও সহযোগিতা আমাদের বন্ধুত্বকে আরও দৃঢ় করে তুলেছে। সবাই মিলে যতদূর পারি সকলের পাশে থাকবো, সুন্দরবনের আরোগ্য কামনায় – এটাই আমাদের অঙ্গীকার।

আপনাদের একান্ত সহযোগিতা ছাড়া এই কাজ আমাদের পক্ষে অসম্ভব ছিল। আগামীদিনেও এইভাবেই আমরা এইসকল মানুষদের পাশে দাঁড়াতে চাই, সেইজন্যে আমাদের আরো বিপুল অর্থ সঙ্গতির প্রয়োজন, যা আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব নয়। আমরা আশা রাখবো একইভাবে আপনারা আমাদের পাশে থাকবেন। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

দত্ত বাড়ির অভয়া দুর্গা – পাহাড়হাটি, বর্ধমান – কথাবৃক্ষ শারদীয়া সংখ্যা, ২০২১

শ্রী শ্রী জগৎজননীর মন্দির – মানিকতলা – কথাবৃক্ষ শারদীয়া সংখ্যা, ২০২১

সোনার দুর্গা মন্দির – বেহালা | কথাবৃক্ষ শারদীয়া সংখ্যা, ২০২১

মানিকতলা ঘোষ বাড়ির দুর্গোৎসব – কথাবৃক্ষ শারদীয়া সংখ্যা, ২০২১

|| শ্রী শ্রী ঢাকেশ্বরী মাতার মন্দির – কুমারটুলী || কথাবৃক্ষ শারদীয়া সংখ্যা – ২০২১

দত্ত বাড়ির অভয়া দুর্গা – পাহাড়হাটি, বর্ধমান – কথাবৃক্ষ শারদীয়া সংখ্যা, ২০২১

শ্রী শ্রী জগৎজননীর মন্দির – মানিকতলা – কথাবৃক্ষ শারদীয়া সংখ্যা, ২০২১

সোনার দুর্গা মন্দির – বেহালা | কথাবৃক্ষ শারদীয়া সংখ্যা, ২০২১

মানিকতলা ঘোষ বাড়ির দুর্গোৎসব – কথাবৃক্ষ শারদীয়া সংখ্যা, ২০২১

|| শ্রী শ্রী ঢাকেশ্বরী মাতার মন্দির – কুমারটুলী || কথাবৃক্ষ শারদীয়া সংখ্যা – ২০২১

Ambika Ghosh benaras Bengal Bengali Literature Bengali Poetry bengali short story coronavirus Dakshinee dreams Durga Puja Editorial Emotions folk culture India indian politics Kashmir Kobita kolkata kothabriksha lockdown Music Nature nilimesh ray poem Poetry Pratyay Pratyay Raha pritam chowdhury Rabindranath Rabindranath Tagore Rabindrasangeet Religion sharodiya shonkhya shortstory society Srabanti Sen Stories Story Sustainable Travel Suvo Guha Thakurta Theatre travel Travelogue west bengal World Environment Day

Published inEditorial

Be First to Comment

Leave a Reply

%d bloggers like this: