Skip to content

কথাবৃক্ষের ২ বছর

দেখতে দেখতে দু’বছর হয়ে গেলো। শুরু করেছিলাম যখন, তখন আর এখনের মধ্যে অনেকটা তফাৎ হয়ে গেছে। পরিস্থিতি বদলের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের চিন্তা ভাবনাও বদলেছে।গত বছর অর্থাৎ ২০২০তে আমাদের সকলেরই অনেকটা সময় কেটেছে গৃহবন্দী অবস্থায়।তখন আমরা ভাববার বা নতুন কিছু করবার অনেক অবকাশ পেয়েছি। নতুন অনুপ্রেরণায় অনেক নতুন কাজ করেছি। ভয়াবহ ‘আমফান’-এর পর ঝাঁপিয়ে পড়েছি… অসহায় মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়াবার চেষ্টা করেছি। ‘কথাবৃক্ষ’এর পাতায় পাতায় সঞ্চিত হয়েছে গৃহবন্দী মানুষের মনন ও চিন্তাশক্তির গতি প্রকৃতির দলিল। এই সময়টা আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে।

আমরা এসেছিলাম আমাদের নিজেদের ভাবনা চিন্তা গুলোকে আরও অনেকের সাথে মিশিয়ে মিলিয়ে তুলনা করে আলোচনা সমালোচনার মাধ্যমে সমাজ দেশ কাল কে সকলের সামনে তুলে ধরবো বলে। কিন্তু আজ বুঝি এ বহু শতাব্দীর মনীষার সাধনা।কারণ, আজকে প্রতি মুহূর্তের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সব কিছুই বড্ড বেশি গতিশীল। সেই গতিশীলতা যেখানে আমাদের নিজেদের বিশ্বাসকে নাড়িয়ে দিয়ে যাচ্ছে সেখানে এই সমাজের বহু স্রোত-শাখা-প্রশাখার অভিমুখ কে বোঝা তো দূর তার আভাস পাওয়াই দুষ্কর।
তবু আমরা চেষ্টা করেছি।পথ চলেছি, আরও নতুন পথ আবিষ্কার করবো বলেই।

যখন পুজোর আগে সমাজের সেই প্রান্তিক বানিয়ে রাখা মানুষদের সাথে মিশেছিলাম, তখন বুঝেছিলাম আমরা কত ঠুনকো একটা জীবন নিয়েই হিমশিম খেয়ে যায়। সেখানে কত মানুষ প্রতি মুহূর্তেই লড়ে চলেছে। আসলে “কথাবৃক্ষ” আমাদের আয়না সেই আয়নাতেই আমরা বুঝেছি যে, ‘মানুষ যা বলে তা বিশ্বাস করে না।’ এমন বলেই মানুষের থেকে রহস্যময় আর কিছু নেই। তাই আগামীতেও আমরা ‘মানুষ’এর এই রহস্যই উদঘাটন করে যাবো।

কথাবৃক্ষের শুধু সাহিত্যপত্রিকা নয়, কথাবৃক্ষকে এমন এক বনস্পতি করে তোলার স্বপ্ন আমরা দেখেছি, যার ছায়ায় এসে পথিক দু-দন্ড বিশ্রাম নেবে। এই হিংসা-কুৎসা-ফেক নিউজের যুগে, সহজ ভাষায় জীবনের কথা, মানুষের কথা। তাই অনেক ঝড় ঝাপটা পেরিয়েও কথাবৃক্ষ এখনো দাঁড়িয়ে আছে। এবং তা কথাবৃক্ষের পাঠক ও অনুরাগীদের জন্য। তাঁদের ভালোবাসা না পেলে হয়তো এতটা পথ আমরা পেরোতে পারতাম না। আমরা জানি আপনারা এভাবেই আমাদের পাশে থাকবেন, এবং চাইবেন কথাবৃক্ষ সেই স্বপ্নের বনস্পতি হয়ে উঠুক।

সকলকে নববর্ষ ১৪২৮ এর শুভেচ্ছা।

Published inEditorial

Be First to Comment

Leave a Reply

%d bloggers like this: