Skip to content

ঘরের কোণের দুর্গাপুজো – অতনু দে | শারদীয়া সংখ্যা

Last updated on October 13, 2020

এবার আমাদের একসাথে কাটানো তিনটে দুর্গাপুজো হতো, যদি না আমি আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখতাম। আজকাল আমার তারিখ, দিন, মাস সব কেমন যেন আমার লেখার মতো এলোমোলো হয়ে যায়। আমি হঠাৎ করে স্মৃতি নিয়ে বসে যাই পুরোনো দুর্গাপুজোর কথা বলি- আজও বলছি, দুটিতে মিলে বেশি হেটে ঠাকুর দেখিনি আবার অল্পতে হাঁপিয়েও যাইনি শুধু শরতের মেঘের মতো ভেসে বেরিয়েছি…। তখন রাতে আমার জ্বর আসতো, সকালে ঘুম ভাঙলে সে বলতো ‘রাতে তোমাকে ছুঁতে পারিনি সমস্ত গা টা যেন পুড়ে যাচ্ছিল’। আমি কিন্তু শরতের রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়েছিলাম। নতুন পোশাকের গন্ধ আমাকে কতটা মাতিয়েছিল তা জানি না তবে আবেগ গুলো কাশফুল হয়ে ফোনের গ্যালারী জুড়ে আছে আজও।
আবার পুজো আসছে.. পুজো কেটেও যাবে, শরৎ আসবে, শিউলি ফুটবে, আকাশে মেঘেরাও ভেসে বেড়াবে, পুজোর গন্ধটা যেন ম-ম করবে … আমার ঔষুধ গুলো আমাকে ঘিরে ধরবে। আমার কাছে দুর্গাপুজো এবার কেবল আমার পুজো ঢাকের আওয়াজ, ফুল, মন্ত্র, সাজের আয়োজন, রাতে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়া ও ভোরে ওঠার প্রস্তুতি।
আমার কথাগুলো সত্যিই ভীষণ এলোমেলো ভাবতে বসলে মনে হয় একদিকে পুজোর ঢাক বাজছে আর একদিকে মাথা যন্ত্রণা গ্রাস করছে। পুজোর আগে আমার বুকের মধ্যে আরও একটা আওয়াজ বাজে,আমাকে না একটা প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে! আবার কেউ যেন বলে উঠে উৎসবের কটা দিন এমন করিস না, আমিও চুপ করে থাকি কিচ্ছুটি করি না কিছু করবো কিনা জানি না !
আমি এখন মনখারাপের ওষুধ খাই, তারাই এখন ঘুম পাড়ানি গান গায়। এখন আর দিন গুনি না, কী যেন ভাবি সারাদিন, মনে ভয় হয়! ঠাকুমার মতো কুসংস্কারও বিশ্বাস করি ,দাদা আবার বলে কেমন ঘুমঘুম চোখে তাকিয়ে থাকি। এসব অনেক হলো.. উফ্ বছরের কটাতো দিন নিজেকে ঠিক সামলে নেব…….
হঠাৎ করে মা কেন জানিনা বলে উঠল ‘এবার তো দেবীর দোলায় আগমন’ …

অতনু দে
এম. এ(বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ) (কাশী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়)

All rights reserved © Kothabriksha 2020

Published inKothabriksha Sharodiya Edition 2020Story

Be First to Comment

Leave a Reply

%d bloggers like this: