Skip to content

বল্টুদা এবং… – সুদীপ ভট্টাচার্য 

বল্টুদা সাংঘাতিক সিরিয়াস পাঠক। পড়তে পড়তে তিনি সেই লেখার কতটা গভীরে ডুব দেন, সে বড় আশ্চর্যের কাহিনী। কালিদাস পড়ে প্রথম পাহাড়ে গিয়েছিলেন মেঘ দেখতে, কপালকুন্ডলা পড়ে প্রথম সমুদ্রদর্শন। দেবদাস পড়ে ধরেছিলেন নেশা। কেউ একজন বলেছিলো — “দেবদাসে তো শুধু নেশার কথা লেখা নেই, ব্যার্থ প্রেমও আছে।”

একথা শুনেই বল্টুদার প্রেম পর্বের শুরু। গল্প উপন্যাসের মতন জীবন চান বল্টুদা। কিন্তু প্রেম করবার পর কিছুতেই সেই প্রেমকে বিদায় জানাতে পারছেন না তিনি। বৌদি কিছুতেই ছেড়ে যেতে চাইছেন না। তাহলে বিচ্ছেদ হবে কি করে? একদিন বেশ খানিকটা নেশা করে পৌঁছে গেলেন বৌদির বাপের বাড়িতে। ভাবী জামাইকে এমন নেশাড়ু দেখে যদি মেয়ের সঙ্গে বিয়ে টা বানচাল করে দেন শ্বশুরমশাই। কি কান্ড, বৌদির বাবার তখন সর্দি হয়েছে খুব। প্রায় ঘন্টা খানেক গল্প করলেন বল্টুদার সঙ্গে, কিন্তু এতটুকুও বল্টুদার মুখ থেকে গন্ধ পেলেন না।

বিচ্ছেদ চাই বল্টুদার। একনিষ্ট পাঠক বল্টুদা। চাই গল্প, উপন্যাসের মত জীবনের গতি। তখনও বিয়ে হয়নি বৌদির সঙ্গে। বৌদিকে কিনে দিলেন ভুতের বই। অমাবস্যার রাত। আর নিজে সাজলেন ভূত।মাতাল ভুত। গায়ে দিলেন কালো জামা। পুরো ভিলেন মার্কা। ভূত হয়ে পৌঁছে গেলেন বৌদির বাড়ি। শোবার ঘরে বৌদি তখন মন দিয়ে ভূতের গল্প পড়ছেন। গা ছমছমে চারপাশ। বল্টুদা আড়াল থেকে নাঁকি সুরে বলতে লাগলেন…”বল্টুকে ছেড়ে দে হে পাপিষ্ঠা, বিচ্ছেদ চাই বল্টুর।” ব্যকগ্রাউন্ডে তখন ঝনর-ঝন, কম্পোজ করা মিউজিক বাজছে পকেটের টেপরেকর্ডারে। খরচ হয়ে গেছে অনেক, এবার ফলাফলের অপেক্ষা। এমন সময় বৌদি নেমে এলেন খাট থেকে। আড়ালে থাকা বল্টুদা রুপী ভূত কে বার করলেন টেনে। কালো ড্রেসে বল্টুদা তখন এন্টি হিরো মার্কা অবয়বে। বৌদি জড়িয়ে ধরলেন ভূতকে। মুখটা নিয়ে গেলেন মুখের কাছাকাছি। বৌদি চিনতে পারেননি বল্টুদাকে। আর বল্টুদাও বৌদির এমন সাহস দেখেননি কখনও। সাংঘাতিক ভয় পেয়ে গেলেন বল্টুদা। বৌদির হাত কোনরকমে ছাড়িয়ে দে ছুট।

বাড়িতে গিয়ে ভাবছেন,ব্যপারটা কি হলো! বৌদিকে কি ভূতের সঙ্গে ইয়ে মানে পরপুরুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কেসে ফেলা যায়? এসব ভেবে বল্টুদা যখন সাংঘাতিক রেগে বৌদিকে ফোন করলেন, বৌদি তখনও ভূতের গল্পে মশগুল। খুব তাড়াহুড়োর সঙ্গে বৌদি বলে উঠলেন…”কিছুক্ষন পরে আমি তোমায় ফোন করছি, আবার একটা ভূত এসেছে মনে হচ্ছে”।

আর যায় কোথায়। বল্টুদা, এক দৌড়ে ভাবি শ্বশুরবাড়ি। বৌদির হাত থেকে ভূতের বইটা এক টানে নিলেন কেড়ে। আর দেরি নয়, শ্বশুরমশাইকে বললেন বিয়ের দিন ঠিক করতে।

গল্প, উপন্যাস, কবিতার মত জীবন চান বল্টুদা।একনিষ্ট পাঠক তিনি। কিন্তু সব কি আর সেরকম হয়? হয় না। এই যেমন একবার “নৌকাডুবি” পড়ে মাঝ গঙ্গায় নৌকা ফুটো করতে গিয়েছিলেন বল্টুদা। কি মার কি মার সেদিন..!

© Kothabriksha 2020, All Rights Reserved.

সুদীপ ভট্টাচার্য একাধারে লেখক, কবি, আকাশ বাণীর প্রখ্যাত সঞ্চালক, বাচিক শিল্পী ও অন্দরসজ্জাবিদ

Published inStory

Be First to Comment

Leave a Reply

%d bloggers like this: