Skip to content

‘যেতে পারি কিন্তু কেন যাবো’ – শুভ্রদীপ

আজকালকার প্রজন্মের মানুষের কাছে ‘ডিপ্রেশন’ শব্দটি বহুল প্রচলিত। এই ডিপ্রেশনের সঠিক সংজ্ঞা বা ব্যাখ্যা আমাদের কাছে নেই। ছোটখাটো মন খারাপকেও আমরা ‘ডিপ্রেশন’ বলে চালিয়ে থাকি। কিন্তু, ডিপ্রেশন মানে কি শুধুই মন খারাপ, নাকি তার চেয়েও অনেক বড় কিছু বোঝা যায় এই চার অক্ষরের শব্দটির দ্বারা..?

আমাদের মনের একটি জটিল স্তরে প্রবেশ করলে আমরা এই ডিপ্রেশনের কিছুটা সংজ্ঞা পাই। ডিপ্রেশন হল একধরনের ইমোশনাল ইম্ব‍্যালেন্স।কোনো ব্যাক্তির স্বাভাবিক অনুভূতি কিংবা মেজাজের অবনতিকে আমরা ‘মেজর ডিপ্রেসিভ ইলনেস’ বলে থাকি। বর্তমানে বিশ্বে প্রায় তিনশ মিলিয়ন ডিপ্রেশনে আক্রান্ত মানুষ রয়েছেন। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ৫ জনের ১ জন মানুষ কোনো না কোনো ধরনের ডিপ্রেশন বা অ্যাংজাইটিতে ভুগছেন।

তবে সবসময় যে আমরা কারণবশত ডিপ্রেশনে ভুগি তা কিন্তু নয়। অনেক সময় আমাদের জীবনযাপন খুব স্বাভাবিক থাকলেও আমাদের ভিতরে সূক্ষ্ম একটা ডিপ্রেশন কাজ করতে থাকে। আমাদের মনের বিষণ্ণতা আমরা অনেকসময় পাশের ঘরে শোওয়া মা-বাবা বা ভাই-বোনের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারিনা অথচ নিজেদের ঘরে শুয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা জেগে গান শুনে বা সিনেমা দেখে আমরা রাত কাটিয়ে দিই। বন্ধুরা মিলে কোথাও ঘুরতে গিয়ে এক জায়গায় হলেও আমরা নিজেদের মোবাইল ফোনে নানান কাজে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যস্ত থেকে মূল্যবান মুহূর্তগুলোকে হেলায় হারিয়ে ফেলি। পাড়ায় পাড়ায় আড্ডা, গলিতে গলিতে ক্রিকেট খেলা, লাইব্রেরিতে বই পড়া, ক্লাবে ক্যারাম খেলা – এই সবকিছুই যেন আস্তে আস্তে কেমন বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। তবে সেটা কি শুধুই এই একবিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তিগত উন্নতির কারণে, নাকি এই উন্নতির সাইড এফেক্টে আমাদের ভিতরে যে ডিপ্রেশন তৈরি হচ্ছে তার ফলে…? এই বিষয় পাশ্চাত্যের এক দার্শনিক বলেছিলেন যে, মানুষ যত আধুনিক হবে তত সে দ্বীপের মতো বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। তাই আজকের দিনের আধুনিকতার জেরে আমাদের জীবনে সব থেকেও কি যেন একটা নেই। এই ‘কি’ নেই এর উত্তর খুঁজে না পেয়েও আমরা অনেকসময় অজান্তেই ডিপ্রেসিভ হয়ে পড়ি। হয়তো এর প্রধান কারণ আমাদের অপরিসীমিত আকাঙ্ক্ষা।

এছাড়াও আমাদের জীবনে এমন অনেক সময়ই হয় যে আমরা আমাদের মনের কথাগুলো অন্য কারো সাথে ভাগ করে নিতে পারিনা। সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলতে আমরা অনেক সময় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করিনা, কারণ আমরা ভয় পাই যে মনের ভাবগুলো কারো সাথে ভাগ করে নিতে গেলে উল্টোদিকের মানুষটার কাছে আমাদের দুর্বল দিকটা যদি আরো স্পষ্টতা পেয়ে যায়। এই ভেবে আমরা আমাদের ইমোশনগুলোকে সামনে আসতে দিই না। কিন্তু তাতে সমস্যা চলে যাওয়ার বদলে আরো বাড়ে। এই পালিয়ে পালিয়ে বেড়ানোটা আমাদের মধ্যে চূড়ান্ত একটা এস্কেপিস্ট মানসিকতার জন্ম দেয়।

লক্ষ্য করলে আমরা দেখতে পাবো যে দৈনন্দিন জীবনে বহু মানুষ আমাদের প্রশ্ন করেন ‘কেমন আছেন’? তার উত্তরে আমরা কিন্তু হলপ করে কখনো বলতে পারিনা, ‘ভালো আছি’। খুব সাধারণ অথচ গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশ্নটির উত্তর দিতে গিয়ে আমরা মেকি ভাবে বলে থাকি ‘মোটামুটি’ বা ‘চলে যাচ্ছে’। এটা বলে আমরা পরিস্থিতি খানিকটা এড়িয়ে যাবারই চেষ্টা করি বটে। তাহলে আজ যে আমরা বলছি যে ডিপ্রেশন হলে শেয়ার করুন, কেমন আছেন আমাদের বলুন, ডাক্তার দেখান – এই ব্যাপারটা কি এতটাই সহজ..? ওই ‘মোটামুটি’ বা ‘চলে যাচ্ছে’ বলার পর খুব কম মানুষ আছে যারা ঘুরিয়ে প্রশ্ন করে যে কেন শুধুই চলে যাচ্ছে…?

এই সমস্যাগুলোর সাথে মানিয়ে উঠতে না পেরে আমরা নিজেদের প্রচন্ড ব্যস্ত করে রাখার একটা পন্থা খুঁজি। আমরা ভাবি কাজে নিজেদের ব্যস্ত করে রাখতে পারলে আমাদের একাকীত্ব বা সূক্ষ্ম অনুভূতিগুলো নিয়ে ভাববার সময়ই থাকবে না। এরজন্য একধরনের স্বেচ্ছাক্লান্তিতে আমরা নিজেদের ডুবিয়ে রাখি। এছাড়াও আজকাল লক্ষ্য করলে আরেকটা যে জিনিস বেশ চোখে পড়ে তা হলো অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের বিভিন্ন পন্থায় নিজেকে ব্যস্ত করে রাখা। এতে দু’দিকটাই যেন একটা বাল্যান্সড ওয়ে তে চলতে থাকে – অর্থও উপার্জন হয়, লাইফস্টাইল হাই হয় এবং কর্মব্যস্ততাও থাকে। কিন্তু সামান্য একটু বিনোদন, প্রিয়জনের সঙ্গ কিংবা মাঝে মধ্যে একলা ঘরে বসে ভাবা – এই সবকিছুরই তো দরকার আছে আমাদের জীবনে, তাই না…?

এই স্বেচ্ছাক্লান্তির ফলে আমরা বেশ খিটখিটে হয়ে যাই। দৈনন্দিন জীবনের সব কাজেই আমাদের একটা বিরক্তি ভাব প্রকাশ পায়। ‘ভাল্লাগেনা ভাল্লাগেনা’ – এই ধরণের কথা আমরা প্রায়শই ব্যবহার করে থাকি। ডিপ্রেশনের সময় সান্ত্বনা, সৎ পরামর্শ বা ভালো কথা শুনতেও আমাদের ভালো লাগে না। এর চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবে আমরা অল্পতেই রেগে যাই আশেপাশের মানুষগুলোর ওপর, দূরত্ব সৃষ্টি হয় তাদের সাথে। মনে মনে একটা চাপ বা অভিমান কাজ করতে থাকে। মন খুলে অসুবিধে গুলো উল্টোদিকের মানুষটার সাথে শেয়ার করতে পারিনা। এক এক সময় তাৎক্ষণিক রাগের বহিঃপ্রকাশটা হয়তো খুব খারাপ ভাবে করে ফেলি, কিন্তু সেটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে নয়। তার পরক্ষণেই আমরা অনুভব করি যে সেই রাগটা আমাদের নিজেদের মস্তিষ্কপ্রসূত। কার্যত আমাদের জীবনে ধীরে ধীরে কাছের মানুষগুলোর মূল্যবোধ কমে যেতে শুরু করে। তাদের ভালোলাগা, মন্দলাগা বা কোনো অনুভূতি আমাদের কাছে তেমন দাম পায়না।

এই রাগ এবং অভিমান কিন্তু শুধু অপরের প্রতি নয়, নিজের প্রতিও জন্মায়। ডিপ্রেশনে আক্রান্ত মানুষদের মধ্যে অকারণে ঝুঁকি নেবার প্রবণতা ভীষণভাবে বেড়ে যায়। রেস্টলেস ড্রাইভিং, অতিরিক্ত ধূমপান কিংবা মদ্যপান, জুয়া খেলা, নিজেকে বা অন্যকে আঘাত করার মতন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে আমরা মেতে উঠি। দিনে দিনে আমাদের সামাজিক সম্পর্কে অবনতি দেখা দেয়, নিঃসঙ্গতা আমাদের পেয়ে বসে।

জীবনের সমস্যাগুলোকে চেপে রাখার ফলে আমাদের মস্তিষ্কের একটা এমন স্টেজে পৌঁছায় যেখানে আমরা কনস্ট্রাক্টিভ কিছু চিন্তা ভাবনা করতে পারিনা, মাঝে মধ্যেই নিজেদের ভাবনার খেই হারিয়ে ফেলি। ডিপ্রেশন থেকে আমাদের শরীরে নানা রোগ বাসা বাঁধে – হাইপারটেনশন, অনিদ্রা, ব্লাড প্রেশার, ডায়াবেটিস ক্যানসারসহ বহু জটিল রোগ।

এছাড়াও এই ডিপ্রেশনের সবথেকে যেটা ভয়ঙ্কর দিক তা হলো আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়ে যাওয়া। মানসিক বিষন্নতার কারণে মাঝে মাঝেই আমদের নিজেদের জীবনকে অর্থহীন মনে হয়। একাকীত্ব এবং বিচ্ছিন্নতা যখন আমাদের গ্রাস করে, একান্তভাবে যখন আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলি – তখন আত্মহত্যাকেই আমরা এই সমস্যার একমাত্র সমাধান বলে বেছে নিই। এই পদক্ষেপটি সাধারণত মানুষের মাথায় আসার একটা প্রধান কারণ আছে বলে আমার মনে হয়। মানুষ মনে করে সেই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে নিজের জীবন যুদ্ধে ক্লান্ত হয়ে এই একাকীত্বটাকে মেনে নেওয়ার চাইতে  কিচ্ছুক্ষনের কষ্টের বিনিময়ে নিজেকে শেষ করে তা থেকে মুক্তির পাওয়ার একমাত্র উপায় আত্মহত্যা। তরুণ প্রজন্ম এবং মধ্যবয়স্কদের মধ্যেই আমরা বেশিরভাগ আত্মহত্যার প্রবণতা লক্ষ্য করে থাকি কারণ কিছু কিছু ক্ষেত্রে শরীরের বয়সের তুলনায় মনের বয়স অনেকগুণ বেড়ে যাওয়ায় মনে বার্ধক্য আসে এবং সেই ব্যক্তি নিজেকে মানসিক ভাবে মৃত বলে মনে করে। সেই কারণেই শারীরিক ভাবে বেঁচে থাকাটা তখন তার কাছে অর্থহীন হয়ে যায়।

আমরা অনেকেই আত্মহত্যাকে মানসিক ভারসাম্যহীনতার সাথে তুলনা করে থাকি। কিন্তু আদপেও দুটো টার্মের মধ্যে কোনো রেলিভেন্সি নেই। মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষ মাত্রই যে আত্মহত্যা করবে তা কিন্তু নয়। যদিও ডিপ্রেশন একটি বায়োলজিক্যাল ইলনেস, একধরনের আবেগজনিত মানসিক সমস্যা। কিন্তু সাইকলজি সম্পর্কিত গবেষণায় দেখা যায় যে নিউরোট্রান্সমিটারস, যেমন নোরেপাইনফ্রাইন এবং সেরোটোনিনের কার্যকলাপের স্তর দীর্ঘস্থায়ী বিষণ্নতায় পরিবর্তন করে।

তবে ডিপ্রেশনের সঙ্গে আত্মহত্যার যে ক্লিনিক্যাল সম্পর্ক তার বাইরেও কিছু বক্তব্য থেকে যায়।
এমন অনেক মানুষের উদাহরণ আমরা পাই যারা কোনোরকম আত্মহত্যার কারণ আজও পরিষ্কার নয়। সবসময় যে পারিবারিক, পার্সোনাল বা প্রফেশনাল ডিপ্রেশনের কারণেই মানুষ আত্মহত্যা করে, তা কিন্তু নয়। অনেকেই মনে করেছেন আত্মহত্যা একটি শিল্প, বহু পশ্চিমী কবি-সাহিত্যিক তাদের জীবনে ‘আত্মহত্যা’ কে শিল্পের মোড়ক দিয়েছেন।
আমেরিকান কবি সিলভিয়া প্লাথ বলেছিলেন “Dying is an art, like everything else. I do it exceptionally well.” এবং ১৯৬৩ সালে একটি শীতের সকালে, ভোরবেলায় উনি গ্যাস ওভেনে নিজের মাথা ঢুকিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। এই আত্মহত্যাকে কি আমরা শুধুই ডিপ্রেশন বলতে পারি..? আমরা এডলফ হিটলারের জীবন ঘাঁটলেও দেখতে পাই যে ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দে ইভা ব্রাউনকে তিনি বিয়ে করে, তার ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই ফিউরার বাংকারে সস্ত্রীক আত্মহত্যা করেন।
এছাড়াও সিগমন্ড ফ্রয়েড, যাঁকে আমরা সাইকো-অ্যানালেসিসের জনক বলি, তিনি নিজেই ম্যাক্স স্কার ও কন্যা আনা ফ্রয়েডের সঙ্গে যৌথ পরামর্শ‌ করে অধিক মরফিন গ্রহণের মাধ্যমে স্বে‌চ্ছামৃত্যু হিসেবে আত্মহত্যা করে মৃত্যুবরণ করেন। এই মৃত্যু গুলোকে কি আমরা শুধুমাত্র চূড়ান্ত ডিপ্রেশনের ফলাফল ধরে নিতে পারি.. মনে হয় পারি না…!

বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে আমাদের সমাজ ধীরে ধীরে যে দিকে এগোচ্ছে, তাতে আমরা দিনে দিনে আরো বেশি করে একা হয়ে পড়ছি। আজকের এই করোনা প্যান্ডামিকের কারণে আমাদের মধ্যে যে সামাজিক দূরত্ব তৈরি হয়েছে তাও কিন্তু আমাদের একটা ডিপ্রেশনের কারণ। সাধারণ সময় আমরা জীবনে যতই একাকীত্বে ভুগি, রাস্তায় নেমে জনজোয়ারে ভেসে গেলে কিন্তু সে একাকীত্ব খানিকটা হলেও কমে। হয়তো এক এক জন মানুষ এক এক দিকে চলে তাদের মতন করেই, সকলেই অচেনা, তবুও যেন একটা আপনত্ত্ব থাকে, একটা সঙ্গবদ্ধতা থাকে। কিন্তু প্রযুক্তিগত দিক থেকে এবং এবং বর্তমানের পরিস্থিতির দাপটে আমরা দৈহিক ভাবে তো বটেই, মানসিক ভাবেও প্রত্যেকে প্রত্যেকের থেকে অনেকটা দূরে চলে যাচ্ছি। এই মানসিক দূরত্ব, যা একবার তৈরি হয়েছে তা কিন্তু করোনা মিটে গেলেও আরো দৃঢ় ভাবে আমাদের মধ্যে থেকে যাবে। আমরা চাইলেও তখন হয়তো কাউকেই পাশে পাবো না। তবে এর থেকে বেরোনোর উপায় আমাদেরকেই খুঁজে বার করতে হবে। কারণ না হলে একধরনের চক্রাকার প্রক্রিয়ায় ডিপ্রেশন মানুষকে তিলে তিলে শেষ করে ফেলবে এবং তার জগতটাও ক্রমশ ছোট করে দেবে। 

শুধুমাত্র জীবন যুদ্ধে হেরে গিয়ে এই অসময়ে চলে যাওয়ার কথা চিন্তা করলে উল্টোদিকে মনে পড়ে শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের সেই কবিতার লাইনগুলো :
‘যাবো
কিন্তু, এখনি যাবো না
তোমাদেরও সঙ্গে নিয়ে যাবো
একাকী যাবো না, অসময়ে। ‘
সত্যিই তো, আমরা যদি একটু গভীরে ভাবি তাহলে দেখতে পাবো যে চলে যাওয়ার বা হেরে যাওয়ার যেমন অনেক কারণ আছে, ঠিক তেমনই বেঁচে থাকারও অনেক কারণ রয়েছে আমাদের আশেপাশে। হ্যাঁ, হয়তো চূড়ান্ত ডিপ্রেশনের মুহূর্তে আমরা সেই কারণগুলোকে আমাদের অবচেতন থেকে চেতনায় রূপান্তরিত করতে পারি না, কিন্তু একটু ভেবে দেখলে দেখা যায় যে সত্যিই এমন অনেক কিছু আছে যার জন্য আমরা লড়তে পারি।
আমরা অদ্ভূত ভাবে আমাদের জাগতিক ব্যস্ততায় নিজেদের আশেপাশের ভালোটাকে লক্ষ্যই করি না।
পশ্চিমী কবি ডেভিড. এল. ওয়েদারফোর্ড -এর একটি কবিতা আমাদের জীবন বিষয়ে আমার খুব প্রাসঙ্গিক মনে হয়। তিনি বলছেন :

Have you ever watched kids On a merry-go-round?
Or listened to the rain Slapping the ground?
Ever followed a butterfly’s erratic flight?
Or gazed at the sun into the fading night?
You better slow down, don’t dance so fast.
Time is short, the music won’t last.
Do you run through each day On the fly?
When you ask: How are you? Do you hear the reply?
When the day is done, Do you lie in your bed
With the next hundred chores Running through your head?
You’d better slow down. Don’t dance so fast.
Time is short, the music won’t last.
Ever told your child, We’ll do it tomorrow?
And in your haste, Not see his sorrow?
Ever lost touch, Let a good friendship die
Cause you never had time To call and say, “Hi”?
You’d better slow down Don’t dance so fast.
Time is short, the music won’t last.
When you run so fast to get somewhere
You miss half the fun of getting there.
When you worry and hurry through the day,
It is like an unopened gift thrown away.
Life is not a race, do take it slower.
Hear the music, before the song is over.

সত্যিই এই চূড়ান্ত ডিপ্রেশন থেকে বেরোতে গেলে আমাদের একটু আস্তে চলতে হবে। সূক্ষ্ম অনুভূতিগুলোকে আমাদের কদর করতে হবে, জীবনের প্রত্যেকটা মুহূর্তকে আমাদের উপভোগ করতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে দৈহিক ভাবে না হলেও মানসিক ভাবে একে ওপরের অনেক কাছাকাছি আসতে হবে, তাহলেই আমরা পারবো এই রোগ থেকে খানিকটা মুক্তি পেতে। ডিপ্রেশন হওয়ার পরে সেটা ভাগ করা ততটা সহজ নয়, যতটা সহজ নিজেদের মুহূর্তগুলোকে ভাগ করে নেওয়া – ‘Prevention is better than cure’.

চিত্র-সূত্র : 1. shutterstock.com
2. unsplash.com
3. gq-magazine.co.uk
4. health.harvard.edu

লেখক পরিচিতি : শুভ্রদীপ। কর্মসূত্রে অধ্যাপক।গবেষক। ভ্রমণপিপাসু।একজন সংবেদনশীল মানুষ। ‘কথাবৃক্ষ’ পরিবারের সহ-সম্পাদক।

© কথাবৃক্ষ – Kothabriksha ( All Rights Reserved )

Published inEssay

Be First to Comment

Leave a Reply

%d bloggers like this: