Skip to content

কয়েকটি কবিতা-রূপক বর্ধন রয়

বান্ধবীমন

স্বাধীন নামে ডাকতো সবাই,
ডাকতো সবাই কালবোশেখী!
যেদিন আমার আগুন যত যত্ন করে সাজিয়ে নিলি;
সেদিন থেকে সবাই বলে
এক বিকেলেই, কালবোশেখীর আনমনেতেই ঘরে ফেরা।
সেদিন থেকে বুঝছে না কেউ;
বুঝছে না, তোর বুকের ভীতর,
আগুন জ্বরে,
ছটফটিয়ে স্বপ্নশীখা বাড়ছে সারা শরীর জুড়ে!

সবাই বলে;সময় হল;
কালবোশেখীর ঘোর কেটেছে।

মানবী তুই থামলি কেন? কেন ভাবিস ওসব কথা?
ওসব মিছে কচকচানি।
ওরা যা বলছে বলুক,
আমি মানি তুই দাবানল, ধুমকেতু তুই;
আর যা আছে, যে সব শুধুই ঘরে ফেরার হুকুম মানে;
সমস্থ তোর এক ঝাপটেই ভেঙে চুড়ে নতুন হবে।
জানি আমি মননে তোর,
বিনয় ফুঁড়ে স্পর্ধা বাড়ে!
তোর ঝড়ে, এক-আকাশ জুড়ে
আমার প্রেমের নিশান ওড়ে!

শ্মশান কবর জুড়ে

উর্দী ধরা অপ্সরা, তার চৈতন্য কোঠায় শুয়ে থাকে।
খুনের উপর খুন চড়ে যায়, লাশের উপর লাশ।

জান্তব কাম মিচকি হাসে, চুঁইয়ে পড়া লাল;
ধর্মীয় সব বর্ম আঁটে ঈশ্বরীয় ফাঁস।

চাপ চাপ রক্তে মাটি, কংক্রিট ভরছে তার খিদে;
বিবেক, বোতল বন্দী মোলোটভ, জানলা ফুঁড়ে খাটে।

সেদিন ঔরঙ্গজেবী, আজ তার তিলক কপালে;
সহস্রাব্দ রক্ত নালা, মৃত্যুর স্রোতে ফুলে ওঠে।

দেশি গাভী শিং নাড়ে, গুলি ঝেড়ে ল্যাজ নাড়ে কাট্টা,
কোলে পিঠে খেলা বেটি, “মহল্লিয়া মাল” হয়ে যায়;

মন্দির-আজান ফেলে; খিদে-প্রেম অন্য খাটে শুলে,
স্মশান কবর জুড়ে, মানুষের পায়চারি পায়।

প্রৌঢ় প্রেমিক

পড়তেই পারি! এফোঁড়-ওফোঁড়
প্রেমে পড়ে যেতেই পারি।
একটা রঙিন ঝর্ণা, বা এক থোকা শিউলি যেমন;
এক-একটা সহস্রাব্দ বা প্রত্যেক হেমন্তের শেষে,
ঝরে পরতেই পারি।
বারম্বার সর্বনাশে, গান্ধর্ব বা অতীন্দ্রিয় বিভাবে ,
সে না হয় সুযোগ হলেই ঝরে পড়া যাবে।

হে প্রৌঢ় প্রেমিক; তবু,
অপেক্ষা ছুঁয়ে শত-শতাব্দী নির্জীবতায় বাসা বাঁধি আমি,
সে প্রেম তবে, কে জানে কবে, জয়ের প্রেম হবে?

Published inPoetry

One Comment

Leave a Reply

%d bloggers like this: